সিবিএন ডেস্ক:
কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, এগুলো তারা বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তবে আমদানি ও ক্রয়-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২১ মডেলের টয়োটা সুপ্রা, একটি হোন্ডা সিভিক এবং ২০২০ মডেলের মাজদা রোডস্টার।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করে পরে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেওয়ার একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রেজভী আহমেদ বলেন, ২৭ আগস্ট ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা কয়েকটি চালান সম্পর্কে কাস্টমস গোয়েন্দা তথ্য পায়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, আমদানি করা যন্ত্রাংশগুলো জোড়া লাগিয়ে সহজেই পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কাস্টমস বিধিমালা অনুযায়ী কোনো পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। কোনো পণ্যের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান একসঙ্গে আমদানি করে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ পণ্য তৈরি করা সম্ভব হলে কাস্টমসের দৃষ্টিতে ওই চালানকে চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

জব্দ গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গাড়িগুলো ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন’ বলেও দাবি করেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আইন অনুযায়ী গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সের পার্কিং থেকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়িও জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জব্দ গাড়িগুলো কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং কোথায় গাড়িগুলো সংযোজন করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করা হবে। চোরাচালানের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।